ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২, ২০২৬ - ৭:৫৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

কোনো ব্যক্তি বা দল যদি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ত্যাগ করে ফিরে আসে, তাকে পুনর্বাসন করা হবে — লে. কর্নেল শাহ্ নেওয়াজ তাসকিন

  • আপডেট: Monday, February 2, 2026 - 3:38 pm

মো. গোলামুর রহমান, লংগদু (রাঙামাটি)।

দুর্গম পাহাড়ের অনগ্রসর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনসাধারণের জীবনমান সমৃদ্ধ করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে রাজনগর জোন (৩৭ বিজিবি)। শিক্ষা, সম্প্রীতি এবং কল্যাণের সেই ধারাবাহিকতায় ২ ফেব্রুয়ারি মানবিক ও দেশপ্রেমমূলক কর্মসূচির আয়োজন করে বিজিবি।

রাজনগর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. শাহ নেওয়াজ তাসকিন, পিএসসি, জোনের দায়িত্বপূর্ণ এলাকা সিবেরেগা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে একটি নতুন ফ্ল্যাগ পোল এবং জাতীয় পতাকা তুলে দেন। জোন কমান্ডারের উপস্থিতিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদাত্ত কণ্ঠে গাওয়া জাতীয় সংগীতের সুরে নবনির্মিত পোলটিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়, যা উপস্থিত সবার মধ্যে এক আবেগঘন দেশপ্রেমের আবহ তৈরি করে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচি শেষে জোন কমান্ডার মাঘীপূর্ণিমা উপলক্ষে সিবেরেগা এলাকায় অবস্থিত বৌদ্ধ মন্দির (কিয়াংঘর) পরিদর্শন করেন। তিনি এই ধর্মীয় উপাসনালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করেন এবং শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে একটি ফলের ঝুড়ি উপহার দেন। বিজিবির এই উদ্যোগ স্থানীয় পাহাড়ি জনসাধারণের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

কিয়াংঘর প্রাঙ্গণে স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন জোন কমান্ডার। সভায় তিনি বলেন, “রাজনগর জোন কেবল সীমান্ত রক্ষা নয়, পাহাড়ের মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হিসেবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য—পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীকে আধুনিক ও মূলধারার উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা।”

যুব সমাজকে মাদক এবং সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে তিনি এলাকায় একটি সামাজিক ও ক্রীড়া ক্লাব প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, খেলাধুলা ও গঠনমূলক কাজের মাধ্যমেই তরুণ প্রজন্মকে নেতিবাচক পথ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

বক্তব্যের শেষে তিনি এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মানবিক বার্তা প্রদান করেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, কোনো ব্যক্তি বা দল যদি ভুল পথ বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ত্যাগ করে স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে চায়, তবে বিজিবি তাদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনের সকল দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

রাজনগর জোনের এই মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে বিজিবিকে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।