ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২৬ - ৬:৩২ অপরাহ্ন

কিউবার জলসীমায় মার্কিন স্পিডবোট, গুলিতে নিহত ৪

  • আপডেট: Thursday, February 26, 2026 - 10:41 am

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। কিউবার জলসীমায় অনুপ্রবেশ করা একটি মার্কিন স্পিডবোটে গুলি করেছে দেশটির সীমান্তরক্ষীরা। এতে চারজন নিহত হয়েছেন। কিউবা সরকারের দাবি, নৌযানটির আরোহীরা প্রথমে গুলি চালালে সীমান্তরক্ষীরা পাল্টা গুলি চালায়।

বুধবার সকালে কিউবার উত্তর-মধ্যাঞ্চলের ভিলা ক্লারা প্রদেশের উপকূলবর্তী দ্বীপ কায়ো ফ্যালকন্সের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

খবর আল জাজিরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিউবা সরকার জানায়, স্পিডবোটটির লাইসেন্স প্লেট ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের। এই অঙ্গরাজ্য কিউবা দ্বীপ থেকে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

কিউবার দাবি, স্পিডবোট থেকেই প্রথম গুলি ছোড়া হয়, যার ফলে পাল্টা গুলিবিনিময় শুরু হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, নিয়ম ভঙ্গকারী স্পিডবোটের আরোহীরা কিউবার সদস্যদের ওপর গুলি চালায়, এতে কিউবার জাহাজের কমান্ডার আহত হন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নৌযানটিতে থাকা চারজন আক্রমণকারী নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন।

পরবর্তী বিবৃতিতে নিহতদের একজনের নাম প্রকাশ করা হয়—মিশেল অর্তেগা কাসানোভা। আটক ছয়জনের নামও প্রকাশ করা হয়েছে, যাদের সবাইকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবান নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, তাদের উদ্দেশ্য ছিল কিউবার মাটিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে অনুপ্রবেশ করা। অভিযুক্ত ১০ জনের কাছে অস্ত্র, মলোটভ ককটেল, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও ক্যামোফ্লাজ পোশাক ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া কিউবার ভেতর থেকে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার নাম দুনিয়েল হার্নান্দেজ সান্তোস। তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো হয়েছিল সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারীদের গ্রহণ করার জন্য, এমন দাবি করেছে কিউবা সরকার।

এমন ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও কিউবা অভিযোগ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা নৌযান তাদের জলসীমায় ঢোকার চেষ্টা করলে গুলিবিনিময় হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় এ ঘটনাটি বিশেষভাবে বিতর্কিত হয়ে উঠতে পারে।

ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেইয়ার জানিয়েছেন, ঘটনাটির তদন্ত শুরু করা হবে। তিনি বলেন, কিউবা সরকারকে বিশ্বাস করা যায় না, আমরা দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনব।

কিউবা সরকার তাদের সীমান্তরক্ষীদের পদক্ষেপকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। তারা বলেছে, বর্তমান চ্যালেঞ্জের মুখে নিজেদের আঞ্চলিক জলসীমা রক্ষা করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন বলেও জানান।

রুবিও ক্যারিবীয় দেশগুলোর সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, স্পিডবোটটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো অভিযানের অংশ ছিল না। খোলা সমুদ্রে এ ধরনের গুলিবিনিময় অত্যন্ত অস্বাভাবিক ঘটনা। বহু বছর ধরে কিউবার সঙ্গে এমন কিছু ঘটেনি।

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার সম্পর্ক আবারও তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং ভেনেজুয়েলা, ইরান, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে কিউবার সম্পর্কের সমালোচনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ ১৯৫০-এর দশকের শেষ থেকে শুরু হয়ে ১৯৬০-এর দশকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞায় রূপ নেয়।