আমিরের সমাবেশ বন্ধে নওগাঁয় পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে বিএনপি: জামায়াতের প্রার্থীর অভিযোগ
নওগাঁ প্রতিনিধি।। ৫ ফেব্রুয়ারি আমিরে জামায়াত আসছেন, তার প্রোগ্রামটা যেন এখানে সফল না হয় সে উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ হামলা চালিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নওগাঁ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আ স ম সায়েম।
তিনি বলেন, নির্বাচনের শুরু থেকেই জামায়াতে ইসলামীর ইমেজকে ভয় পেয়ে প্রতিপক্ষরা শান্তির শহরকে অশান্তিতে পরিণত করার চেষ্টা করছে তারা এরই মধ্যে বুঝতে পেরেছে নওগাঁ সদরে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। তাই পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করেছিল। রাস্তায় রাস্তায় গ্রুপ করে টাকা দিয়ে সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে রেখেছে। আমিরে জামায়াতের প্রোগ্রামে লোকজন যেন উপস্থিত না হয় সেজন্য তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের দয়ালের মোড়ে অবস্থিত পৌর জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আ স ম সায়েম বলেন, বেলা ১১টার দিকে নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে হাসাইগাড়ী ইউনিয়নে আমি গণসংযোগে যাই। দুপুর দুইটার দিকে গণসংযোগ সমাপ্ত করে গোপাই মাখনা গ্রামে আমাদের এক কর্মীর বাড়িতে বিশ্রাম নিই। হঠাৎ করে বিকেল ৩টার দিকে অনেক হইচই শুনতে পাই। আমি তখন ঘুমাচ্ছিলাম। ঘুম থেকে উঠে জানালা দিয়ে দেখি অনেক চিল্লাচিল্লি হচ্ছে। পরে আমি জানতে পারি সেখানে কয়েকজন ছেলে এসে জোরপূর্বক আমি এ বাড়িতে আছি সেটার ছবি তুলছিল এবং বাড়িতে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। আমার কর্মীরা তখন তাদেরকে বাধা দেয়। তখন তারা নিজেদের বলে আমরা জামায়াতের কর্মী। ওখানকার স্থানীয়রা তখন বলে আপনাদেরকে তো আমরা জামায়াতের কোনো প্রোগ্রামে কোনোদিন দেখিনি। আপনারা তো এই পাড়ার কেউ না। এরপরই গণ্ডগোল শুরু হয়।
তিনি বলেন, আমার কর্মীদেরকে শান্ত থাকতে বলি। আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সদর মডেল থানা পুলিশ এবং ভীমপুর পুলিশ ফাঁড়িকে জানাই। আমি যেখানে ছিলাম সেখান থেকে পুলিশ ফাঁড়ির দূরত্ব মাত্র ৭ কিলোমিটার। এরপরও পুলিশ আসতে প্রায় এক ঘণ্টা দেরি করে। পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ প্রণয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিকে সঙ্গে নিয়ে আসে। এই প্রণয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএনপির সভাপতি এবং সেখানকার সন্ত্রাসীদেরকে সঙ্গে নিয়ে আমি যেখানে অবস্থান করছিলাম সেখানে আসে। তারা এটি পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই করেছে। তখন নিচে অনেক চিল্লাচিল্লির আওয়াজ শুনতে পাই। আমি নিচে নামতে চাইলে প্রণয়সহ পুলিশ আমাকে নিচে নামতে দেয় না। পূর্ব পরিকল্পিত ঘটনা ঘটাবে বলেই ফাঁড়ির ইনচার্জ এ ঘটনায় পুরোপুরি মদদ দিয়েছে। তাছাড়া সেখানকার বিএনপি সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটাতে পারতো না।
তিনি আরও বলেন, আমি ওপর থেকে দেখি পুলিশের হাতের এসএস পাইপ কেড়ে নিয়ে বিএনপি সন্ত্রাসীরা আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা করছে। তখন বিএনপি সভাপতি জালাল নেমে গিয়ে এ হামলার নেতৃত্ব দেয়। পুলিশ তখন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছিল। মুস্তাফিজ নামে আমাদের এক কর্মীকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথায় আঘাত করে। তার কানে লেগে কানের পর্দা ফেটে গেছে, বর্তমানে সে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। পুলিশের ভূমিকা দেখে মনে হচ্ছে পুলিশ তাদেরকে প্রটেকশন দেওয়ার জন্য ভীমপুর থেকে এসেছে।
সায়েম বলেন, আমরা সকল বাধা উপেক্ষা করে জনগণের পাশে আছি। আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই না। আমরা চাই নওগাঁ শান্তির শহর। এই শান্তির শহরকে কোনো মতেই অশান্তি সৃষ্টিকারীদের হাতে ছেড়ে দেবো না ইনশাআল্লাহ। আমরা নওগাঁর জনগণের সঙ্গে আছি, জনগণের সঙ্গেই থাকবো।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সহকারী অধ্যাপক মহিউদ্দিন, সদর উপজেলা আমির অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম, নওগাঁ অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী সদস্য এসএম জুবায়ের, খেলাফত মজলিস নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি মুফতি ইসরাফিল আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।











